সাজু মাচিয়াং : মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের ইছাছড়া খাসিয়া পুঞ্জিতে আদিবাসী এক দম্পতির প্রায় ১২ শতাধিক পরিপক্ব পানগাছ কেটে ফেলার ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) কুলাউড়া শহরে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশাল মানববন্ধন।
কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠন, খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (কেএসইউ), বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম (মৌলভীবাজার জেলা শাখা) এবং বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী অধিকার সুরক্ষা নাগরিক কমিটির যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে কয়েক শতাধিক আদিবাসী নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রত্যুষ আসাক্রা। বক্তারা বলেন, পানগাছ খাসিয়া সম্প্রদায়ের জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন। এই গাছ ধ্বংস করা মানে একটি পরিবারের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে ধ্বংস করে দেওয়া।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন কুলাউড়া ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য সজল, জাসদ কুলাউড়া শাখার সাধারণ সম্পাদক ময়নুল ইসলাম শামীম, কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফ্লোরা বাবলি তালাং, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সহসভাপতি নারায়ণ কুর্মী, বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী অধিকার সুরক্ষা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল হাসান, কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব করিম মিন্টুসহ আরও অনেকে।
এছাড়াও ইউপি সদস্য সিলভেস্টার পাঠাং, সাদমান সৌমিক মজুমদার, নারী নেত্রী মনিকা খংলা, ঝিমাই পুঞ্জির মান্রী রানা সুরং, ববিতা দিও, হিরন্ময় সিংহসহ খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
মানববন্ধন শেষে একটি প্রতিবাদ মিছিল কুলাউড়া শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে উপজেলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে আদিবাসী নেতৃবৃন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপির অনুলিপি স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো
১. ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অনন্ত ও সরিস লামারাই দম্পতিকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান।
২. আদিবাসী পানচাষিদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৩. প্রথাগত ভূমি অধিকার সংরক্ষণ ও উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা।
৪. পুঞ্জি এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল ও নজরদারি জোরদার করা।
৫. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার করা না হলে পুরো জেলার আদিবাসী সম্প্রদায় কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ গভীর রাতে ইছাছড়া পুঞ্জিতে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে আদিবাসী দম্পতি অনন্ত ও সরিস লামারাইয়ের পানের জুমের প্রায় ১২ শতাধিক পরিপক্ব পানগাছ কেটে ফেলে। এতে প্রায় ১২ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকেই আদিবাসী সমাজে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।