
ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে সকাল সাড়ে ৬টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বর্ণাঢ্য এই আয়োজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন। 
এসময় উপস্থিত ছিলেন রেস ডিরেক্টর মো. জাকির হোসাইন, ইভেন্ট ম্যানেজার সুলেমান হাসান, মিডিয়া ম্যানেজার আসিফ ইবনে জামান, কমলগঞ্জ রানার্সের এডমিন এবাদুর রহমানসহ আয়োজক কমিটির সদস্য মঞ্জুরুল আলম, রিপন আহমেদ, মামুন, রাহেল, ডা. হাসান, শাহেদ মিয়া, মণি, মুহিম, মিজু, সাহান ও মইনুদ্দিন প্রমুখ।
এই ম্যারাথনের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ ছিল দৌড়ের মধ্যপথে অবস্থান করা দুটি হাতি ও ব্যান্ড পার্টি। পাহাড়ি ট্রেইলের মাঝে হাতির উপস্থিতি এবং ব্যান্ড পার্টির ছন্দময় সুর দৌড়বিদদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা ও আনন্দের আবহ সৃষ্টি করে। বিদেশি দৌড়বিদরাও এই ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতায় মুগ্ধ হন।1
আয়োজকরা জানান, দুর্গম পাহাড়ি পথ, চা-বাগানের আঁকাবাঁকা ট্রেইল, মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং ব্যতিক্রমী উপস্থাপনা—সব মিলিয়ে দৌড়বিদদের জন্য এটি ছিল এক অনন্য ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। তাদের মতে, রাজকান্দি হিল ম্যারাথন এখন আর শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; এটি আন্তর্জাতিক পর্যটন ও অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের সম্ভাবনাময় একটি আয়োজন।
দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শুভ আফ্রিদী বলেন, “আমি আগেও বেশ কয়েকবার ম্যারাথনে অংশ নিয়েছি, তবে পাহাড়ে এই প্রথম। উঁচু-নিচু রাস্তা, চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আবার পথে হাতি ও ব্যান্ড পার্টি—সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতাটা ছিল অসাধারণ। স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল—সুস্থ থাকতে দৌড়ের কোনো বিকল্প নেই। 
রেস ডিরেক্টর মো. জাকির হোসাইন বলেন, “প্রতি বছরই আমরা নতুন ও চ্যালেঞ্জিং রুটে দৌড় আয়োজনের চেষ্টা করি। আল্ট্রা ম্যারাথনপ্রেমীরা সারা বছরই এই ইভেন্টকে লক্ষ্য করে প্রস্তুতি নেন। পাহাড়ি পথে নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের এই সুযোগ গ্রহণ করায় সবাইকে ধন্যবাদ। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ভবিষ্যতে বিদেশি অংশগ্রহণ আরও বাড়িয়ে নিয়মিত এমন আয়োজন চালু রাখা সম্ভব হবে।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন বলেন, “দেশজুড়ে বিভিন্ন দূরত্বের দৌড় প্রতিযোগিতা স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে নীরব এক বিপ্লব সৃষ্টি করেছে। কমলগঞ্জের মতো পাহাড়ঘেরা একটি উপজেলায় বিদেশি দৌড়বিদসহ এত মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে অভূতপূর্ব। দৌড় সব বয়সী মানুষের জন্য সুস্বাস্থ্য গঠনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
প্রতিযোগিতা শেষে পুরুষ ও নারী—উভয় বিভাগে বিজয়ীদের হাতে নগদ অর্থ, মেডেল ও আকর্ষণীয় ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।