মোঃ আহাদ,মিয়া,কমলগঞ্জ :মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় শালিস বৈঠকে ডেকে নিয়ে এক যুবককে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কালারায়বিল বাজার এলাকায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ এপ্রিল রাত প্রায় ৮টার দিকে একটি শালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে ছয়গড়ি গ্রামের মিলন মিয়াকে সেখানে ডেকে নেওয়া হয়।কিন্তু শালিস চলাকালীন হঠাৎ করেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, ইউপি সদস্য মোঃ ফারুক আহমেদ “ধরো ধরো” বলে চিৎকার করলে আগে থেকেই ওঁত পেতে থাকা একদল ব্যক্তি মিলনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য মোঃ ফারুক আহমেদ ও আব্দুল্লাহ। তাদের দাবি, কদ্দুস মিয়ার ছেলে “চোর ধরো বলে চিৎকার করার পরই উত্তেজিত লোকজন মিলনের ওপর হামলা চালায়।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরো ঘটনাটি পূর্ব বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। হামলার আগে ও পরে ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, একই গ্রামে এক বৃদ্ধের দোকানে চুরির ঘটনা ঘটলেও সেখানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো বিচার হয়নি। অথচ একটি শিশুর কথার ভিত্তিতে মিলন মিয়াকে চোর সন্দেহে কেন এমন নির্মমভাবে মারধর করা হলো, তা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা মিলন মিয়াকে এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় মিলন মিয়াকে উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলার নেতৃত্ব দেন ছয়গড়ি গ্রামের তোতা মিয়া, সাইত্তা মিয়া, রেদুয়ান মিয়া, হেলাল মিয়া, রায়হান মিয়া, মনফর মিয়া, আজিদ মিয়া এবং বাংলা টিলা গ্রামের সুহাই মিয়া। এছাড়াও আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি হামলায় অংশ নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আহত মিলনের মা রাবিয়া বেগম বলেন, “বিচারের কথা বলে আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এখন মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা চরম আতঙ্কে আছি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার পর থেকেই অভিযুক্তরা পরিবারটিকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। ফলে পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল আউয়াল জানান উভয় পক্ষ মামলা দিয়েছেন, তবে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্হা নেওয়া হবে