শ্রীমঙ্গলে মাদক কারবারি ও অপকর্মে বিরুদ্ধে সচেতনতামুলক সভা অনুষ্ঠিত।
রুবেল আহমদ :মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে খুন-খারাবি, মাদক, চুরি-ছিনতাই ও সামাজিক সমস্যা এখন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে মাদক-ইয়াবার ছোবলে আক্রান্ত কিশোর ও যুব সমাজ। ফলে তুচ্ছ ঘটনায়ও বাড়ছে খুন-খারাবি। এদিকে প্রশাসনের পাশাপাশি মাদক-ইয়াবা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নাগরিক পরিষদ। এরই অংশ হিসেবে উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়ের বনগাঁও এলাকাবাসির উদ্যোগে এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলা নাগরিক পরিষদ এর ব্যবস্থাপনায় মাদক প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে এক সচেতনতামুলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে বনগাঁও গ্রামে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নাগরিক পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. মোসাব্বির আল মাসুদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোঃ তাজ উদ্দিন তাজু, এলাকার মুরব্বি আফজল মিয়া, সুধান চক্রবর্ত্তী প্রমুখ।
সভায় মোসাব্বির আল মাসুদ বলেন, উপজেলার আনাচে-কানাচে মাদক-ইয়াবা ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্পটে মাদক-ইয়াবা নেশাজাতীয় বস্তু বেচাকেনা হচ্ছে। মাদক কারবারিদের কেউ বাধা দিলে তাদের ওপর আক্রমণ করা হয়। ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ দিলেও সহজেই প্রতিকার পায় না। উলটো মাদক কারবারিদের ডাকে পুলিশ আগে আসে। এভাবে চলছে প্রশাসন। মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়ার কারণে উপজেলায় কয়েকটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। শ্রীমঙ্গলের আলিশারকুল এলাকায় শিশু, ভুনবীর এলাকায় মুয়াজ্জিন, কালাপুর এলাকায় বাবা-ভাই, সিন্দুরখান রোড এলাকায় এক যুবক খুনের শিকার হন।
বনগাও এলাকার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই এলাকায় ইমদাদুর রহমান দীর্ঘদিন মাদক-ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে প্রতিবাদকারীদেও ওপর হামলা-আক্রমণ করে। তার হিন্দু এক প্রতিবেশী মাদক কারবাওে বাধা দেয়ায় তাকে হত্যাচেষ্টা করা হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীনের পর সে সুস্থ হয়। শুনেছি ওই মাদক কারবারি কয়েকবার জেল খাটারর পরও এ ব্যবসা ছাড়েনি। পুলিশের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক। এ ঘটনায় জখমি অভিযোগকারীর ডাকে পুলিশ আসেনি এবং
অভিযোগ দেয়ার পরও কোনো সহযোগিতাও করেনি। বরং মাদক কারবারির ডাকে পুলিশ আসে। এলাকার চিহ্নিত এই মাদক কারবারির কারণে এলাকার সুনাম নষ্ট হচ্ছে এবং কিশোর যুব সমাজ নষ্ট হচ্ছে।
সভায় বিএনপি নেতা মোঃ তাজ উদ্দিন তাজু অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসন মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে নেই। এর প্রমাণ শাপলাগ এলাকায় মাদক কারবারি কর্তৃক লুৎফুর ও সোহেলকে আহতের ঘটনা।
শ্রীমঙ্গল থানার তদন্ত ওসি আব্দুর রাজ্জাককে বারবার কল করার পরও যথাসময় তিনি ঘটনাস্থলে আসেননি। মাদক কারবারিদের সাথে ওসি তদন্তের সখ্যতা রয়েছে। তদন্ত ওসি আব্দুর রাজ্জাক মাদক কারবারিসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত রয়েছেন। তিনি মাদক কারবারিদের সহযোগিতা করছেন বলেও অভিযোগ তুলেন বিএনপি নেতা তাজু।
সভায় এলাকাবাসি বলেন, বনগাঁও এলাকায় চিহ্নিত মাদক কারবারি ইমদাদুর পেশায়ং ছিলেন রিকশা চালক। এখন তিনি পেশা ছেড়ে দর্ঘিদিন ধরে মাদক-ইয়াবা কারবারে জড়িত। প্রতিদিন এলাকা থেকে তিনি টমটমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মানুষের কাছে মাদক বিক্রি করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইমদাদুর রহমান (৫০) বলেন, আমি একসময় রিকশা চালক ছিলাম। এখন টুকটাক কৃষি কাজ করি। আমি কোনোভাবেই মাদক কারবারে জড়িত না এবং মাদক ইয়াবার ব্যাবসাও করি না। আমার সাথে প্রতিবেশির এ্যনিমি সম্পদ নিয়ে কিছু বিরোধের জেরে তারা আমাকে মাদক কারবারির অভিযোগ তুলেছে।
শ্রীমঙ্গল থানার তদন্ত ওসি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মাদক কারবারি কিংবা কোনো অপরাধীর সাথে আমার সখ্যতা বা কোনো ধরণের সম্পর্ক নেই। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি অনেক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছি।
শ্রীমঙ্গল থানার ওসি সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পুলিশ মাদক ব্যবসায়ীসহ সকল অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তদন্ত ওসি মাদক কারবারি ও অপকর্মে সহযোগতা করছেন এমন অভিযোগ উঠেছে প্রশ্নে তিনি বলেন, পুলিশের কেউ মাদক কারবারি বা অপকর্মে সহযোগিতা করতে পারে না। যদি প্রমাণিত হয় তাহলে যেই হোক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।