• বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩৪ অপরাহ্ন
  • |
  • |
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন বাসে যাত্রী ওঠানামার সুযোগ চান যাত্রীরা ভিউয়ের নেশায় জীবন ঝুঁকিতে: সাপ নিয়ে বিপজ্জনক কনটেন্ট বন্ধ হোক পরিবেশ রক্ষায় কমলগঞ্জে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ফলজ গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ স্বামীর সম্পত্তি অধিকার চান শ্রীমঙ্গলের রহিমা শ্রীমঙ্গলের অভিজাত লন্ডন রেস্টুরেন্টে দক্ষ ম্যানেজার নিয়োগ সিলেটে বিআরটিসির নতুন টিকিট কাউন্টার উদ্বোধন, ১৮ রুটে বাস সার্ভিস কমলগঞ্জে বন্যাকবলিত ৬৫০ পরিবারের পাশে সিএনআরএস, নগদ সহায়তা ও হাইজিন কিট বিতরণ ৯৯৯-এ কলের পর হামহাম জলপ্রপাতে আটকে পড়া ১০ পর্যটককে উদ্ধার করল পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ৮ বছর ধরে চাঁদা দেওয়ার পর এক কিস্তি বন্ধ, ফল ধরার আগমুহূর্তে ১,২০০ কমলা গাছ কাটার অভিযোগ বন বিভাগের বিরুদ্ধে শ্রীমঙ্গলে মাদকবিরোধী সচেতনতা মূলক সভা অনুষ্ঠিত

ডিজিটাল দেশের এনালগ গ্রাম, নেই স্কুল বিদ্যুৎ রাস্তা স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ পানি

রিপোটার : / ২৩১ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

মোঃ আহাদ মিয়া, কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার  :
ডিজিটাল বাংলাদেশের আলোয় যখন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে… তখনও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের একটি গ্রাম আটকে আছে অতীতে। কাগজে-কলমে নাম সুষমানগর, কিন্তু স্থানীয়দের কাছে পরিচিত তৈলংপাড়া। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে এই গ্রামে পৌঁছাতে নেই কোনো পাকা রাস্তা। বন পেরিয়ে কাদামাটির আঁকাবাঁকা পথ আর বর্ষা মৌসুমে সেই পথ হয়ে ওঠে প্রায় অচল।
এই গ্রামে বসবাস করেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ২৮টি পরিবার। তাদের ঘরবাড়ি যেন পঞ্চাশ বছর আগের কোনো গ্রামের ছবি বাঁশ, মাটি আর ছনের ছাউনি। কেবল সামান্য স্বচ্ছল পরিবারগুলো টিনের ঘরে থাকলেও, সেগুলোর অবস্থাও নড়বড়ে। তাদের মূল জীবিকা লেবু চাষ। পাশাপাশি আছে কলা আর নাগা মরিচ। কিন্তু আধুনিক জীবনের কোনো সুবিধাই তাদের কাছে পৌঁছায়নি।
অনিরাপদ কুয়ার পানি খাওয়ার জন্য সংগ্রহ করছেন ত্রিপুরা নারী
বিদ্যুৎ নেই, স্কুল নেই, নেই স্বাস্থ্যসেবার কোনো ব্যবস্থা। এমনকি মোবাইল নেটওয়ার্কও অদৃশ্য প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায়। ফলে জরুরি সময়ে বাইরের সঙ্গে যোগাযোগ করাই দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে। কেউ অসুস্থ হলে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে বা সাইকেলে গিয়ে সিএনজি আনতে হয়। আর বর্ষার সময় হেঁটেই যেতে হয় কর্দমাক্ত পথে।পানির একমাত্র উৎস প্রাকৃতিক ছড়া আর কুয়ার পানি। কিন্তু সেই পানিই অস্বাস্থ্যকর। যার কারণে গ্রামবাসী প্রায়ই ভোগেন পানিবাহিত নানা রোগে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আসে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। নির্বাচনের সময় নানা আশ্বাস শোনা গেলেও ভোট শেষে গ্রামবাসী ফিরে যান একই হতাশায়। সীমান্তবর্তী এই গ্রামে অভাব-অনটনে কেউ কেউ পাড়ি জমাচ্ছেন ভারতের ত্রিপুরায়, আবার কেউ কেউ ধর্মান্তরিত হচ্ছেন বেঁচে থাকার তাগিদে। এ বিষয়ে ত্রিপুরা তৈলং পল্লীর হেডম্যান করোনা দেববর্মা জানান আমারা কি এই দেশের নাগরিক না, ভোট আসলে ত আমরা ভোট দেই তাহলে কেনো আমাদের গ্রামের উন্নয়ন করা হবে না, আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই যাতে দ্রুত আমাদের অবহেলিত গ্রামের উন্নয়ন করেন। গ্রামের মানুষের একটাই দাবি দ্রুত বিদ্যুৎ, রাস্তা, স্বাস্থ্যসেবা আর নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা হোক।এটি শুধু একটি গ্রামের গল্প নয়, ডিজিটাল বাংলাদেশের ভেতরে লুকিয়ে থাকা এনালগ বাস্তবতার নির্মম ছবি।
অগ্রসর এই গ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্পর্কে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন এই গ্রাম সম্পর্ক আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, গ্রামের হেডম্যান সহ সবার সাথে কথা বলে তাদের যা যা প্রয়োজনীয় তা কমলগঞ্জ উপজেলা থেকে প্রদান করা হবে।


আরো সংবাদ পড়ুন...