শ্রীমঙ্গলের ঐতিহাসিক গায়েবী মসজিদ: লোককাহিনী ও স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন
রিপোটার :
/ ৮৮
বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত :
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
শেয়ার..
মোঃ আহাদ মিয়া :মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নে অবস্থিত প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপত্য তিন গম্বুজ বিশিষ্ট গায়েবী মসজিদ স্থানীয়ভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। শত বছরের পুরনো এই মসজিদকে ঘিরে রয়েছে রহস্যময় লোককাহিনী, যা আজও স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত।
শ্রীমঙ্গলের গায়েবি মসজিদ এর ছবি
জনশ্রুতি অনুযায়ী, প্রায় এক হাজার বছর আগে শংকর সেনা, জিলাদপুর ও আশিদ্রোন এলাকার কিছু ধর্মপ্রাণ মানুষ বিলাস নদীর তীরে একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। মসজিদের জন্য জায়গা নির্ধারণ করে এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ মাপা হয় এবং নির্মাণ কাজের জন্য ঈশান দেওয়া হয়। তবে সেদিন আর কোনো কাজ করা হয়নি।
এরপর পরদিন নির্মাণকাজ শুরু করার উদ্দেশ্যে সবাই রাতে ঘুমাতে যান। কিন্তু পরদিন সকালে গ্রামবাসী এসে বিস্ময়ের সঙ্গে দেখতে পান সেখানে সুন্দর চুন-সুরকির একটি সম্পূর্ণ মসজিদ তৈরি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, রাতের মধ্যেই জিনেরা এই মসজিদ নির্মাণ করে দিয়েছে। সেই থেকেই মসজিদটি এলাকায় গায়েবী মসজিদ নামে পরিচিতি লাভ করে।
গায়েবি মসজিদের দক্ষিণ পাশের ছবি
ধারণা করা হয়, মসজিদটি আনুমানিক প্রায় এক হাজার বছর আগে, অর্থাৎ প্রায় ১০০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে নির্মিত। পশ্চিম আশিদ্রোনের জিলাদপুর গ্রামের এলাকাবাসী বিলাস নদীর তীরের বিস্তীর্ণ জায়গা জুড়ে এটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকেও মসজিদটি বেশ অনন্য। এটি রডবিহীনভাবে ইট ও চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত এবং এতে মোগল স্থাপত্যরীতির প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। মসজিদটি তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এবং এর নির্মাণশৈলী প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত।
শ্রীমঙ্গলের গায়েবি মসজিদ এর ছবি
প্রায় ৩০ শতাংশ জমির উপর নির্মিত এই মসজিদের ভেতরে দুই কাতারে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ জন মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদটি সংস্কার করা হয়েছে। বর্তমানে এতে বারান্দা, ওজুখানা নির্মাণ করা হয়েছে এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কারুকার্যও যোগ করা হয়েছে।
প্রাচীন ইতিহাস, রহস্যময় লোককাহিনী এবং নান্দনিক স্থাপত্যের সমন্বয়ে শ্রীমঙ্গলের গায়েবী মসজিদ আজও স্থানীয় মানুষের কাছে ধর্মীয় অনুভূতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।