রমজানকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে লেবু, কলা, ব্রয়লার মুরগি, গরুর মাংস, বেগুন, শশা ও পেঁয়াজসহ বেশ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আকস্মিক এ মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। তবে বাজার নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের যৌথ মনিটরিং জোরদারের কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে লেবুর দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১২০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। একই সঙ্গে গরুর মাংসের দাম কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেলে অনেক দোকানি তাৎক্ষণিকভাবে দাম কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেন। শহরের একাধিক বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত সপ্তাহে ১৬৫ টাকায় বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগি বর্তমানে ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতা কবির মিয়া বলেন, “রমজান আসলেই অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। অল্প সময়ের ব্যবধানে পণ্যের দাম এত বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।”
ব্যবসায়ীরা অবশ্য দাবি করছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কালিঘাট রোডের ব্যবসায়ী শিপন মিয়া বলেন, “মুরগি আগের মতো পাওয়া যাচ্ছে না। বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”
অন্যদিকে দেশি মুরগি ও সোনালি মুরগির দামও বেড়েছে। দেশি মুরগি কেজিতে ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সবজির বাজারেও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্ট। লেবু, বেগুন, শশা ও কলার দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। ক্রেতা আবু বকর বলেন, “এক সপ্তাহ আগেও যেসব পণ্য অর্ধেক দামে পাওয়া গেছে, এখন সেগুলোর দাম দ্বিগুণ।”
ব্যবসায়ীদের দাবি, আমদানি কম ও সরবরাহ ঘাটতির কারণেই লেবু ও শশার দাম বেড়েছে। তবে ক্রেতারা বলছেন, বাজার মনিটরিং আরও জোরদার না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন জানান, রমজান উপলক্ষে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে উপজেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সমন্বয়ে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। মূল্যতালিকা না রাখা এবং অতিরিক্ত দাম আদায়ের অভিযোগে কয়েকটি দোকানকে জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “খাদ্যে ভেজাল বা অতিরিক্ত মুনাফার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”