মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মৌলভী চা বাগানে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর গলা কেটে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেখানো মতে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা দা ও রক্তমাখা পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ৫ জানুয়ারি বিকেলে মৌলভী চা বাগানের বাংলো টিলার ঢালে গলা কাটা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় জাকির হোসেন (৫০) নামের এক দিনমজুরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের স্ত্রী আনজিলা বেগম বাদী হয়ে মৌলভীবাজার সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং–৬, তারিখ–৬/০১/২০২৬, ধারা–৩০২/৩৪)।
ঘটনার পর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা ও সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খয়েরের তত্ত্বাবধানে সদর থানার একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে এসআই উৎপল সাহা, এসআই জয়ন্ত সরকার, এসআই হিরণ বিশ্বাস, এএসআই রানা মিয়া, এএসআই সাইদুর রহমানসহ একটি টিম কাজ শুরু করে।
গত ৭ জানুয়ারি ভোরে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানার ছুফুয়া বাবুর্চি বাজার এলাকা থেকে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ৮ জানুয়ারি সকালে তাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে আনুমানিক ৩০০ মিটার দূরে লুকিয়ে রাখা হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা দা এবং আসামি স্বাধীনের রক্তমাখা হুডি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তদন্তে জানা যায়, নিহত জাকির হোসেনের সঙ্গে আসামি স্বাধীন আহমেদের প্রায় এক বছর আগে কাজের সূত্রে পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ও আর্থিক লেনদেন গড়ে ওঠে। জাকিরের বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা থাকার বিষয়টি জানার পর স্বাধীন তার সহযোগী আকাশ রবি দাশকে নিয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় তারা জাকিরকে মৌলভী চা বাগানে নিয়ে গিয়ে ধারালো দা দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করে। পরে তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও বিকাশ থেকে ক্যাশ আউট করে টাকা নিয়ে কুমিল্লায় পালিয়ে যায় বলে পুলিশ জানায়।
এ ঘটনায় উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে—হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা দা, আসামি স্বাধীনের রক্তমাখা হুডি, ভিকটিমের বিকাশ থেকে ক্যাশ আউট করা ৭৬০ টাকা এবং ওই টাকায় কেনা একটি নতুন হুডি।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।