শীতের সকালে কমলগঞ্জের শমশেরনগর আইডিয়াল কিন্ডারগার্টেন স্কুল প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে উঠেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পিঠার স্বাদ আর রঙিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে রাতের শেষ অবধি স্কুলের মাটি যেন ছোট্ট স্বপ্নের বাজারে পরিণত হয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর তৃতীয়বারের মতো আয়োজন করা হয়েছিল পিঠা মেলা। সকাল ৯টা থেকেই শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা একত্রিত হয়ে মেলায় বসিয়েছেন ৮টি স্টল,শীতের মিষ্টি পিঠার ছড়াছড়ি, কাপড়ের স্টল, খেলার জিনিসপত্র এবং বিরিয়ানি স্টল।
মেলার মূল আকর্ষণ ছিল ক্ষুদে শিল্পীদের নাচ ও গান। শিক্ষার্থীরা উন্মুক্ত মঞ্চে নিজেদের প্রতিভা দেখিয়ে প্রাঙ্গণ মুখরিত রাখে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এরপর মেলায় উপস্থিত হন অতিথিরা,বিশিষ্ট কন্ঠশিল্পী ও শমশেরনগর হাসপাতাল কমিটির নির্বাহী সভাপতি সেলিম চৌধুরী, ইংল্যান্ড প্রবাসী শরিফুজ্জামান চৌধুরী তপন, আব্দুল মোতালিব লিটন, মৌলভীবাজার আলী আমজদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মুজিবুর রহমান মুজিব এবং আরও অনেকে। ফুল দিয়ে অতিথিদের স্বাগত জানানো হয়।
অনুষ্ঠান চলাকালীন একে একে মঞ্চে উঠেন সেলিম চৌধুরী, পিংকি সরকার, অর্পিতা, দুলাল, সঞ্জয় দাশগুপ্ত, জহির আহমদ, আইনুন নিশাত মিমু ও মাসুক আলী। তাদের গান-নৃত্যে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ ঝলমল করে ওঠে।
সেলিম চৌধুরী, শরিফুজ্জামান চৌধুরী তপন ও আব্দুল মোতালিব লিটন বলেন, “একটি স্কুল প্রতিবার দেশীয় পিঠা নিয়ে এত জমজমাট আয়োজন করে,এমনটা ভাবতেও কষ্ট হয়!”
আইডিয়াল কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক আইনুন নিশাত মিমু বলেন, “আমরা শুধু পিঠা মেলা নয়, বাংলা নববর্ষও আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করি। স্থানীয় মানুষদের সমর্থন থাকায় আমাদের আয়োজন সবসময় সফল হয়।”
শুধু স্বাদ নয়, শুধু আনন্দ নয়,শৈল্পিকতায়ও ভরা সেই দিনটি কমলগঞ্জের ছোট্ট স্কুল প্রাঙ্গণকে হয়ে উঠতে দেখেছে শীতের উৎসবের রঙিন ছবি।