কালবৈশাখী ঝড় ও বন্যায় কমলগঞ্জের আদমপুরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ফসলি জমি ও বসতবাড়ি বিধ্বস্ত
রিপোটার :
/ ৪৪
বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত :
সোমবার, ৪ মে, ২০২৬
শেয়ার..
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবার গরুকে খাওয়ানোর জন্য নিয়ে যাচ্ছে
মোঃ আহাদ মিয়া, কমলগঞ্জ :কালবৈশাখী ঝড় ও অতিবৃষ্টিজনিত বন্যায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষি অধ্যুষিত এই অঞ্চলে ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও গ্রামীণ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে আদমপুর ইউনিয়নের ভানুবিল, মাজেরগাঁও ও ছনগাঁও এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যাতায়াতের সড়কগুলো এখন নদীর মতো পানিতে ভাসছে। দূর থেকে বোঝার উপায় নেই এটি সড়ক নাকি প্রবাহমান কোনো নদী। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে পাকা ধানের ক্ষেত। অনেক স্থানে সড়ক ভেঙে গেছে এবং অসংখ্য বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে মাটির তৈরি ঘরগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বোরো চাষের সুবিধার্থে লাউয়াছড়ার ওপর নির্মিত একটি সুইস গেট (বাঁধ) এই দুর্যোগের অন্যতম কারণ। বর্ষা মৌসুমে গেটটি ওপরে তুলে রাখার নিয়ম থাকলেও তা করা হয়নি। ফলে কয়েকদিনের টানা অতিবৃষ্টিতে পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে পারেনি। একপর্যায়ে ছড়ার বাঁধ ভেঙে বন্যার পানি আশপাশের ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ে। এতে ধানসহ অন্যান্য ফসল নষ্ট হয়ে যায় এবং বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ বিষয়ে আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবদাল হোসেন বলেন, “বর্ষা মৌসুমে সুইস গেট না তোলা এবং ছড়া খনন না করার কারণেই ছড়ার পাড় ভেঙে বন্যা দেখা দিয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় জানান, “অতিবৃষ্টি, কালবৈশাখী ঝড় ও বন্যার কারণে উপজেলায় প্রায় ২৭০ হেক্টর ধানি জমি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা প্রদান করা হবে। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।