• বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৯ অপরাহ্ন
  • |
  • |
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন বাসে যাত্রী ওঠানামার সুযোগ চান যাত্রীরা ভিউয়ের নেশায় জীবন ঝুঁকিতে: সাপ নিয়ে বিপজ্জনক কনটেন্ট বন্ধ হোক পরিবেশ রক্ষায় কমলগঞ্জে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ফলজ গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ স্বামীর সম্পত্তি অধিকার চান শ্রীমঙ্গলের রহিমা শ্রীমঙ্গলের অভিজাত লন্ডন রেস্টুরেন্টে দক্ষ ম্যানেজার নিয়োগ সিলেটে বিআরটিসির নতুন টিকিট কাউন্টার উদ্বোধন, ১৮ রুটে বাস সার্ভিস কমলগঞ্জে বন্যাকবলিত ৬৫০ পরিবারের পাশে সিএনআরএস, নগদ সহায়তা ও হাইজিন কিট বিতরণ ৯৯৯-এ কলের পর হামহাম জলপ্রপাতে আটকে পড়া ১০ পর্যটককে উদ্ধার করল পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ৮ বছর ধরে চাঁদা দেওয়ার পর এক কিস্তি বন্ধ, ফল ধরার আগমুহূর্তে ১,২০০ কমলা গাছ কাটার অভিযোগ বন বিভাগের বিরুদ্ধে শ্রীমঙ্গলে মাদকবিরোধী সচেতনতা মূলক সভা অনুষ্ঠিত

মাগুরছড়া গ্যাসকূপ বিস্ফোরণের ২৯ বছর: এখনো মেলেনি পূর্ণ ক্ষতিপূরণ, রয়ে গেছে প্রকৃতি ও মানুষের দীর্ঘশ্বাস

রিপোটার : / ১০২ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

মোঃ আহাদ মিয়া, আজ ১৪ জুন। বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর দিন। ১৯৯৭ সালের এই দিনে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাগুরছড়া গ্যাসকূপে সংঘটিত হয়েছিল ভয়াবহ এক বিস্ফোরণ, যার ক্ষতচিহ্ন আজও বহন করছে প্রকৃতি, পরিবেশ এবং স্থানীয় মানুষ।
১৯৯৭ সালের ১৪ জুন মধ্যরাতে মার্কিন তেল-গ্যাস কোম্পানি ‘অক্সিডেন্টাল’-এর গ্যাসকূপ খননকাজ চলাকালে তাদের ত্রুটির কারণে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় এবং দেশের মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, ওই বিস্ফোরণে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। একই সঙ্গে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় লাউয়াছড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চল। ধ্বংস হয়ে যায় ৬৩ প্রজাতির বন্যপ্রাণী, অসংখ্য দুর্লভ বৃক্ষ এবং সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য।
বিস্ফোরণের প্রভাব শুধু বনাঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ক্ষতিগ্রস্ত হয় রেললাইন, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা এবং স্থানীয় খাসিয়া পুঞ্জির বসতবাড়ি। দুর্ঘটনার পর প্রায় ছয় মাস সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় জনজীবন ও অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়ে।
সে সময় বিশেষজ্ঞরা এ ঘটনায় প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণ করেছিলেন। তবে ঘটনার ২৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ আদায় করা সম্ভব হয়নি বলে বিভিন্ন মহলের অভিযোগ রয়েছে।
মাগুরছড়া গ্যাসকূপ বিস্ফোরণ আজও বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতিবছর ১৪ জুন বিভিন্ন সামাজিক, পরিবেশবাদী ও নাগরিক সংগঠন ঘটনাস্থলে মানববন্ধন, আলোচনা সভা এবং স্মরণ কর্মসূচির আয়োজন করে। এসব কর্মসূচিতে দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং দেশের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি জানানো হয়।
মাগুরছড়ার সেই ভয়াবহ আগুন বহু আগেই নিভে গেছে, কিন্তু তার রেখে যাওয়া ক্ষতচিহ্ন আজও রয়ে গেছে প্রকৃতির বুকে, স্থানীয় মানুষের স্মৃতিতে এবং বাংলাদেশের জ্বালানি ইতিহাসের এক বেদনাময় অধ্যায় হিসেবে।


আরো সংবাদ পড়ুন...