মোঃ আহাদ মিয়া, মৌলভীবাজার (শ্রীমঙ্গল কমলগঞ্জ) প্রতিনিধি
দীর্ঘ বিরতির পর আজ (২৮ জুন) সারা দেশের মতো মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলাতেও জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, অপুষ্টি প্রতিরোধ এবং হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে ভিটামিন-এ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ভিটামিন-এ গ্রহণের পর শিশুরা মায়ের সাথে
জানা গেছে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসের পর থেকে দেশে নিয়মিত ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন আয়োজন করা হয়নি। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আরও দুটি ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের বিস্তারের ঝুঁকি বাড়ার বিষয়ে জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ ছিল।
এ প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে আজ সারা দেশে একযোগে জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইনের আয়োজন করেছে। এর আওতায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলায় মোট ৬৭ হাজার ৬৪১ জন শিশুকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে দুই উপজেলায় মোট ৮৬৮ জন স্বেচ্ছাসেবক, ৬৫ জন স্বাস্থ্য সহকারী এবং ৫৭ জন সুপারভাইজার দায়িত্ব পালন করছেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ২১৭টি কেন্দ্রে ৩৬ হাজার ১০৯ জন শিশুকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৩ হাজার ৯৫৯ জন শিশু এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩২ হাজার ১৫০ জন শিশু রয়েছে।
অন্যদিকে, কমলগঞ্জ উপজেলায় ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভাসহ মোট ২১৭টি কেন্দ্রে ৩১ হাজার ৫৩২ জন শিশুকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৩ হাজার ৪৮৮ জন শিশু এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২৮ হাজার ৪৪ জন শিশু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ বিষয়ে ডেপুটি ডিরেক্টর (সিএমএসডি) ডাক্তার তওহিদ আহমদ জানান ভিটামিন-এ অভাবে শিশুদের রাতকানা সহ অন্ধত্ব মতো রোগ হতে পারে, ভিটামিন-এ সেই সাথে মায়ের বুকের দুগ্ধ খুবই গুরুত্বপূর্ণ শিশুদের জন্য। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সহ বিভিন্ন কারনে দীর্ঘদিন ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকায় দেশে হাম এর রোগ মহামারী ধারন করেছিলো, ভিটামিন-এ সেই হাম প্রতিরোধ করতে পারে। ভিটামিন-এ না খাওয়ানোর কারনে হাম মহামারী ধারন করেছিলো বলে জানান।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, অভিভাবকদের নিজ নিজ এলাকার নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। শিশুদের সুস্থ বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।