• বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০১:০৮ পূর্বাহ্ন
  • |
  • |
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীমঙ্গলে বসতবাড়ি থেকে বিষধর খৈয়া গোখরো সাপ উদ্ধার কালবৈশাখী ঝড় ও বন্যায় কমলগঞ্জের আদমপুরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ফসলি জমি ও বসতবাড়ি বিধ্বস্ত শ্রীমঙ্গলে ফজরের নামাজ চলাকালে এক বৃদ্ধাকে হত্যা, যুবক আটক লাউয়াছড়ায় সড়ক অবরুদ্ধ: যানজটে আটকে ট্রেন মিস পর্যটকের শ্রীমঙ্গলে একটু বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যাচ্ছে,পশ্চিম ভাড়াউড়া গ্রাম। শ্রীমঙ্গলে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। আধুনিকতার বাইরে ফুলবাড়ি চা বাগান, ভরসা এখন কুপিবাতি শ্রীমঙ্গলে পুলিশের অভিযানে চোর চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার, উদ্ধার চোরাই মালামাল কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিপর্যস্ত শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ, তিন দিন ধরে বিদ্যুৎহীন অধিকাংশ এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে কমলগঞ্জে নতুন সাপ্তাহিক পত্রিকার উদ্বোধন

কমলগঞ্জের মাঠে ঘামে ভেজা স্বপ্ন, হিমাগারের অভাবে পচনশীল হাহাকার

বিশেষ প্রতিনিধি: / ১৬৯ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা—একটি নাম, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে সবুজ মাঠ, টমেটোর লাল আভা আর কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রম। এই উপজেলাকে স্থানীয়ভাবে বলা হয় ‘কৃষি ভাণ্ডার’। প্রতি বছর এখানে রেকর্ড পরিমাণ আলু, টমেটো ও নানান মৌসুমি শাকসবজি উৎপাদিত হয়। কিন্তু সেই উৎপাদনের আনন্দ বেশিদিন টেকে না। কারণ একটাই—হিমাগারের অভাব।

ফসল তোলার মৌসুম এলেই শুরু হয় কৃষকদের দুশ্চিন্তা। বাজারে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ সবজি আসায় দাম পড়ে যায় হুড়মুড়িয়ে। সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই কম দামে বিক্রি করতে হয় কষ্টার্জিত ফসল। অনেক ক্ষেত্রে বিক্রিও সম্ভব হয় না—মাঠেই পচে যায় টন টন সবজি। কৃষকদের প্রশ্ন একটাই আর কত বছর অপেক্ষা? হিমাগার শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি তাদের ন্যায্যমূল্য, ঋণমুক্ত জীবন আর ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না এলে কমলগঞ্জে প্রতিবছরই মাঠে মাঠে পচে যাবে কৃষকের ঘাম আর স্বপ্ন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, কমলগঞ্জের আদমপুর, মাধবপুর, আলীনগর, ইসলামপুর, মুন্সীবাজার, পতনঊষার, কমলগঞ্জ সদর ও রহিমপুর ইউনিয়নসহ পৌরসভা এলাকায় ব্যাপকভাবে সবজি চাষ হয়। বিশেষ করে টমেটো এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান ফসল। অথচ পচনশীল এসব ফসল সংরক্ষণের জন্য নেই কোনো হিমাগার।

টমেটো চাষি আব্দুল মতিনের বলেন,‘হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে ফসল ফলাই। কিন্তু রাখার জায়গা নেই বলে পানির দরে বিক্রি করতে হয়। একটা কোল্ড স্টোরেজ থাকলে ঋণ করে সংসার চালাতে হতো না।’

একই কথা বলেন আরেক চাষি আব্দুল মন্নান। তার মতে, ‘ফসল মৌসুমে বাজারে চাপ বেশি থাকায় দাম পড়ে যায়। হিমাগারে রেখে পরে বিক্রি করতে পারলে কৃষক বাঁচত, বাজারও স্থিতিশীল থাকত।’

আলু চাষিরাও পড়েছেন ভিন্ন সংকটে। স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, ‘বীজ সংরক্ষণের জন্য তাদের পাশের উপজেলার ওপর নির্ভর করতে হয়। কমলগঞ্জে হিমাগার থাকলে নিজেরাই বীজ সংরক্ষণ করতে পারতেন। এতে খরচ কমত, উৎপাদন বাড়ত, বদলাতো স্থানীয় অর্থনীতির চিত্র।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে সরকারি পর্যায়ে হিমাগার নির্মাণের জন্য জায়গা নির্বাচন ও প্রাথমিক প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো আজও ফাইলবন্দী। কৃষকদের দাবির মুখে মাঝেমধ্যে আশ্বাস এলেও বাস্তব অগ্রগতি চোখে পড়ে না।

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় বলেন,‘টমেটোসহ বিভিন্ন পচনশীল শাকসবজি সংরক্ষণের জন্য হিমাগার অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে সরকারিভাবে প্রস্তাবনা দেওয়া আছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান,‘হিমাগার স্থাপনের বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবগত করা হয়েছে। তিনি জাতীয় নির্বাচনের পরপরই উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।’


আরো সংবাদ পড়ুন...