• বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০১:০৩ পূর্বাহ্ন
  • |
  • |
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীমঙ্গলে বসতবাড়ি থেকে বিষধর খৈয়া গোখরো সাপ উদ্ধার কালবৈশাখী ঝড় ও বন্যায় কমলগঞ্জের আদমপুরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ফসলি জমি ও বসতবাড়ি বিধ্বস্ত শ্রীমঙ্গলে ফজরের নামাজ চলাকালে এক বৃদ্ধাকে হত্যা, যুবক আটক লাউয়াছড়ায় সড়ক অবরুদ্ধ: যানজটে আটকে ট্রেন মিস পর্যটকের শ্রীমঙ্গলে একটু বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যাচ্ছে,পশ্চিম ভাড়াউড়া গ্রাম। শ্রীমঙ্গলে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। আধুনিকতার বাইরে ফুলবাড়ি চা বাগান, ভরসা এখন কুপিবাতি শ্রীমঙ্গলে পুলিশের অভিযানে চোর চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার, উদ্ধার চোরাই মালামাল কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিপর্যস্ত শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ, তিন দিন ধরে বিদ্যুৎহীন অধিকাংশ এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে কমলগঞ্জে নতুন সাপ্তাহিক পত্রিকার উদ্বোধন

কমলগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু মণিপুরিদের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন ‘লাই হারাওবা’ উৎসব

রিপোটার : / ১১২ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

মোঃ আহাদ মিয়া, কমলগঞ্জ :মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর তেতইগাঁও গ্রামে অবস্থিত মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে মণিপুরি মৈতৈ সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী আচারিক উৎসব ‘লাই হারাওবা’ শুরু হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টায় বর্ণাঢ্য পথপরিক্রমার মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উৎসবটি আগামী ১০ এপ্রিল বিকেলে সমাপ্ত হবে।

 

লাই হারাওবা অনুষ্ঠানে নৃত্য শিল্পী

লাই হারাওবা অনুষ্ঠানে নৃত্য শিল্পী

 

উৎসবের উদ্বোধনী দিনে অংশগ্রহণকারী শিল্পী ও ভক্তরা ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের সুরে সঙ্গীত পরিবেশন এবং মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করেন। সন্ধ্যায় নারী-পুরুষ ও কিশোর-কিশোরীরা নৃত্য ও গানের পরিবেশনায় অংশ নেন, যা পুরো পরিবেশকে আনন্দমুখর করে তোলে।
লাই হারাওবা মণিপুরি জনগোষ্ঠীর একটি প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক উৎসব। ‘লাই’ অর্থ দেবতা এবং ‘হারাওবা’ অর্থ আনন্দ; অর্থাৎ এই উৎসব দেবতাদের আনন্দ বিধানের উদ্দেশ্যে উদযাপিত হয়। এতে সনামাহি ধর্মের দেবতাদের সন্তুষ্ট করতে নানা আচার-অনুষ্ঠান, মন্ত্রপাঠ (লাইপৌ), ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত এবং বিশেষ নৃত্য যেমন মাইবী জাগোই পরিবেশিত হয়।
আয়োজকদের মতে, এই উৎসব সৃষ্টি, বিশ্বতত্ত্ব এবং আধ্যাত্মিক সম্প্রীতির প্রতীক। এটি মণিপুরি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে স্থানান্তরিত হয়ে আসছে।
এবারের আয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পী, গবেষক এবং ভারতের মণিপুর থেকে আগত শিল্পী ও কলাকুশলীরা অংশগ্রহণ করছেন। উৎসবটি ইউনেস্কো বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সহায়তায় “সম্প্রদায়-ভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী উৎসব বাস্তবায়ন” প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
লাই হারাওবা স্টিয়ারিং কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, এই উৎসব মণিপুরি জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দু। এটি শুধু একটি উৎসব নয়, বরং তাদের জীবনদর্শন, বিশ্বাস এবং ঐতিহ্যের প্রতিফলন।
উৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মৈতৈ সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে এবং এটি অঞ্চলের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও সম্প্রীতিকে আরও সমৃদ্ধ করছে।


আরো সংবাদ পড়ুন...