• বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০২:২২ পূর্বাহ্ন
  • |
  • |
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীমঙ্গলে বসতবাড়ি থেকে বিষধর খৈয়া গোখরো সাপ উদ্ধার কালবৈশাখী ঝড় ও বন্যায় কমলগঞ্জের আদমপুরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ফসলি জমি ও বসতবাড়ি বিধ্বস্ত শ্রীমঙ্গলে ফজরের নামাজ চলাকালে এক বৃদ্ধাকে হত্যা, যুবক আটক লাউয়াছড়ায় সড়ক অবরুদ্ধ: যানজটে আটকে ট্রেন মিস পর্যটকের শ্রীমঙ্গলে একটু বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যাচ্ছে,পশ্চিম ভাড়াউড়া গ্রাম। শ্রীমঙ্গলে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। আধুনিকতার বাইরে ফুলবাড়ি চা বাগান, ভরসা এখন কুপিবাতি শ্রীমঙ্গলে পুলিশের অভিযানে চোর চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার, উদ্ধার চোরাই মালামাল কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিপর্যস্ত শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ, তিন দিন ধরে বিদ্যুৎহীন অধিকাংশ এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে কমলগঞ্জে নতুন সাপ্তাহিক পত্রিকার উদ্বোধন

শ্রীমঙ্গলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াই চলছে স্কুল, বই উত্তোলন ও মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ

রিপোটার : / ১৩৭ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

মোঃ আহাদ মিয়া : স্কুল থাকলেও নেই শিক্ষার্থী শিক্ষক, তারপরও নিচ্ছেন সরকারি বিভিন্ন  সুযোগ সুবিধা, প্রতিবাদ করায় গ্রাম বাসির উপর মিথ্যা  মামলা করা হয়। শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের জিলাদপুর এলাকায় নামে মাত্র জোড়াজীর্ণ  ভাঙ্গাচুরা হাজী ইছাক মিয়া হাজেরা খাতুন মডেল স্কুল নির্মান করেন আলতাফুর রহমান ওরফে নাজমুল হাসান।  স্হানীয়রা অভিযোগ করে বলেন জায়গা দখলের জন্য আলতাফুর রহমান ওরফে নাজমুল হাসান এখানে একটি স্কুল তৈরি করেন, স্কুল তৈরির পর থেকে এখানে কোন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক কেউ ছিলো না, প্রতিষ্ঠাতা মাঝেমধ্যে বিভিন্ন নারী নিয়ে স্কুলে আসা যাওয়া করতেন, এসব বিষয়ে স্হানীয়রা প্রতিবাদ করলে মামলা দেওয়া হয়, স্হানীয়রা আরো বলেন আলতাফুর রহমান আগে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা দেখিয়ে মামলা করতো এখন বিএনপির নেতা পরিচয়ে সাধারণ মানুষকে মামলা দিয়ে হয়রানি করেন।  ভুক্তভোগীরা বলেন আলতাফুর রহমান এ পর্যন্ত গ্রামের কৃষক থেকে শুরু করে দিনমজুর প্রায় অর্ধ শতাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি করিয়েছে, হয়রানি থেকে বাদ যায়নি সরকারি কর্মকর্তারা। আলতাফুর রহমান এসব মামলার  সাক্ষী হিসেবে রেখেছেন তার আপন ভাতিজা নবম শ্রেণির ছাত্র পাভেল মিয়া এবং উনার স্কুলের সভাপতি আব্দুল জলিলকে, এ বিষয়ে নাবালক সাক্ষী পাভেল বলেন সাক্ষী বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না, আরেক সাক্ষী আব্দুল জলিল জানান, আলতাফুর রহমান উনাকে স্কুলের সভাপতি বানিয়েছে এবং মামলার সাক্ষী হিসেবে দিয়েছেন এসব বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না, তিনি আরো বলেন উনাকে যে  স্কুলের সভাপতি দেওয়া হয়েছে সেই স্কুলে  কোন ছাত্র বা শিক্ষক নেই। মামলা দিয়ে আলতাফুর রহমান আসামিদের টাকার অফার করেন, যদি কেউ কথামতো ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা প্রদান করে তাহলে মামলা থেকে নাম বাদ দেয়। এসব বিষয়ে অভিযুক্ত আলতাফুর রহমান এর কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান, একপর্যায় গ্রামের মানুষকে মামলা দিয়ে হয়রানির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তিনি গ্রামের  কাউকে মামলা দেননি, সাংবাদিক, এবং সরকারি কর্মকর্তাদের মামলা দিয়েছেন, স্কুলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী না থাকা স্বত্তেও কিভাবে সরকারি বই সহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নেন এসব  বিষয়ে জানতে চাইলে আলতাফুর রহমান কোন কথা বলেননি। স্কুলে শিক্ষার্থী নেই তারপরও কিভাবে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে প্রতি বছর বই নিয়ে যায় সে বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন আমি দুই বছর ধরে শ্রীমঙ্গল উপজেলার দায়িত্বে রয়েছি, সেই দুই বছর অর্থাৎ ২০২৫ ও ২০২৬ সালে আলতাফুর রহমান হাজী ইছাক মিয়া হাজেরা খাতুন মডেল স্কুলের নামে বই নিয়েছেন, সেই বই নিয়ে যদি তিনি শিক্ষার্থীদের না দিয়ে থাকেন, তাহলে  আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হবে বলে জানান।  আমাদের অনুসন্ধানে জানা যায় আলতাফুর রহমান স্কুলের নামে নেওয়া বই বিক্রি করে দিয়েছেন ভাঙ্গারির দোকানে। এসব অনিয়মের বিষয়ে শ্রীমঙ্গল  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন জানান বিষয়টি তিনি সামাজিক মাধ্যমে দেখেছেন স্কুলের নামে অনিয়ম বিষয়টি শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএনপির নাম বিক্রি করে সাধারণ মানুষকে মামলা দিয়ে হয়রানির বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহবায়ক নুরে আলম সিদ্দিকি বলেন আলতাফুর রহমান ওরফে নাজমুল হাসান সে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে সে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে বিএনপির নাম বিক্রি করে অনিয়ম করছে বিষয়টি শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাছ থেকে জেনেছেন, তিনি আরো বলেন আলতাফুর রহমান কখনো বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলো না, যদিও বিএনপির  কোথাও তার সম্পৃক্ততা থাকে, তাহলে  বিষয়টি দলীও নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্হা  নেওয়া হবে।


আরো সংবাদ পড়ুন...