• সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০৩:৩৮ অপরাহ্ন
  • |
  • |
সংবাদ শিরোনাম :
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন: শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জে ৬৭ হাজারের বেশি শিশুকে খাওয়ানো হচ্ছে ক্যাপসুল শ্রীমঙ্গলে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পালন উপলক্ষে অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত। পর্যটন শিল্পের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় কমলগঞ্জে ৪০টি পলাশ ফুলের চারা রোপণ শ্রীমঙ্গলে পুশইন ঠেকাতে সচেতনতা মুলক সভা অনুষ্ঠিত কমলগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের ‘পুশ-ইন’ অভিযোগ: ৬ নারী ও এক শিশুকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দিলেন স্থানীয়রা কমলগঞ্জে হীড বাংলাদেশের উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও এককালীন উপবৃত্তি প্রদান শ্রীমঙ্গলে নিষিদ্ধ চায়না জালে আবারও অজগর আটকা, ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি পরিবেশকর্মীদের শাহজালাল রাঃ মাজারের দানবাক্সে সিলগালা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ শ্রীমঙ্গলের কালিঘাট ইউনিয়ন কমপ্লেক্সে থেকে বিষধর শঙ্খিনী সাপ উদ্ধার শ্রীমঙ্গলে ডাঃজোবাইদা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত।

ফাল্গুনের রাঙা দূত পলাশ: বসন্তের আগমনী সুর

রিপোটার : / ২১৫ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

মোঃ আহাদ মিয়া – ফাল্গুন মানেই বসন্তের প্রথম স্পর্শ—প্রকৃতির রঙে, বাতাসের মৃদু দোলায় আর ফুলের উচ্ছ্বাসে ঋতুর নবজাগরণ। ডালে ডালে ফুলের আনন্দনৃত্য আর লালচে আভায় রাঙা বনভূমি জানান দেয়—বসন্ত এসে গেছে। আর সেই আগমনী বার্তার সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রতীক পলাশ।
পাতাশূন্য গাছে থোকা থোকা লাল কিংবা উজ্জ্বল কমলা ফুল ফুটে যখন বনভূমিকে আগুনের মতো জ্বলে ওঠা রঙে ঢেকে দেয়, তখনই পলাশ তার প্রকৃত পরিচয় তুলে ধরে। এ কারণেই পলাশকে বলা হয় ‘ফ্লেইম অব দ্য ফরেস্ট’—বনের আগুন। প্রকৃতির বুকজুড়ে এই রঙিন বিস্তার যেন বসন্তের পূর্ণতার ঘোষণা।


গাছের বৈশিষ্ট্য ও রূপ
পলাশ গাছ সাধারণত সর্বোচ্চ প্রায় ১৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়ে থাকে। শীতে এর পাতা ঝরে যায় এবং বসন্তে পাতাহীন ডালেই প্রথম ফুটে ওঠে ফুল। ধূসর বাকল, আঁকাবাঁকা শাখা-প্রশাখা এবং রেশমের মতো সূক্ষ্ম নতুন পাতা গাছটিকে আলাদা পরিচিতি দেয়। পরিণত পাতা গাঢ় সবুজ, ত্রিপত্রী ও আকারে বড়।
ফুলের দৈর্ঘ্য সাধারণত ২ থেকে ৪ সেন্টিমিটার। টকটকে লাল ছাড়াও হলুদ ও লালচে কমলা রঙের পলাশ দেখা যায়। বৈজ্ঞানিক নাম Butea monosperma—সংস্কৃত ভাষায় কিংশুক এবং মণিপুরী ভাষায় পাং গোং নামে পরিচিত। এর ফল দেখতে অনেকটা শিমের মতো।


ঔষধি গুণ ও পরিবেশগত গুরুত্ব
পলাশ শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, লোকজ চিকিৎসায় এর উল্লেখযোগ্য ব্যবহার রয়েছে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে এ ফুল ব্যবহৃত হয় বলে প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে। পাশাপাশি মৌমাছি ও পাখির জন্য পলাশ গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উৎস—যা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে।


সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে পলাশ
বাংলাদেশের প্রকৃতি, গান ও সাহিত্যে পলাশ এক আবেগময় প্রতীক। দেশাত্মবোধক গান থেকে শুরু করে বাংলা কাব্যে এ ফুলের উপস্থিতি চিরন্তন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতা ও গানে অশোক-পলাশের রঙিন সৌন্দর্য দিয়ে বসন্তের আবেগকে গভীরতা দিয়েছেন। দোল উৎসবের গান কিংবা “ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায়” গানে সেই রাঙা আবেশ আজও অনুরণিত।
মৌলভীবাজার-কমলগঞ্জে বসন্তের রঙ
চা-বাগান আর সবুজ পাহাড়ঘেরা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ অঞ্চলেও ফাল্গুন এলে পলাশের রঙ ছড়িয়ে পড়ে প্রকৃতির বুকজুড়ে। গ্রামীণ পথ, বনভূমি কিংবা চা-বাগানের ধারে লাল রঙের ছোঁয়া বসন্তের আগমনী বার্তাকে করে তোলে আরও জীবন্ত—যা আপনার এলাকার সাম্প্রতিক সামাজিক-সংবাদ কাভারেজের মতোই ঋতুচক্রের স্পন্দন তুলে ধরে।


চিরন্তন বসন্তের প্রতীক
ফাল্গুনের রাঙা দূত পলাশ শুধু একটি ফুল নয়—এ নতুন প্রাণ, নতুন আশা এবং প্রকৃতির পুনর্জাগরণের প্রতীক। বসন্তের দীপ্তিময় বার্তা নিয়ে প্রতিবছরই সে ফিরে আসে, রাঙিয়ে দেয় বন, মাঠ আর মানুষের মন।


আরো সংবাদ পড়ুন...