• সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩২ অপরাহ্ন
  • |
  • |
সংবাদ শিরোনাম :
কমলগঞ্জে মুসলিম মনিপুরী শিক্ষার্থীদের কে বিএমইটি বৃত্তি ও নগদ অর্থ প্রদান ঈদুল ফিতরে লাউয়াছড়ায় পর্যটকের উপচে পড়া ভিড় শ্রীমঙ্গল পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে সংবর্ধনা ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে প্রতারণা, খোয়ালেন ৮ লাখ টাকা কমলগঞ্জে মণিপুরী নববর্ষ উৎসব ‘শজিবু চৈরাউবা’ উদ্বোধন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের হাতে মেহেদী, গায়ে নতুন পোশাক, ঈদের আনন্দ ছড়ালেন এমপি মুজিব বঙ্গবন্ধুর ১০৬তম জন্মবার্ষিকী আজ শহীদ সুদেষ্ণা সিংহ: মাতৃভাষার অধিকার রক্ষায় আত্মত্যাগের স্মরণ শ্রীমঙ্গলে মাসব্যাপী ক্বিরাত প্রশিক্ষণ শেষে পুরস্কার বিতরণ মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেলেন ভিপি মিজান

‘কোটিপতি ভিক্ষুক’: আছে ৩ বাড়ি ও ৩ অটোরিকশা, চলেন গাড়িতে!

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ / ৭৮ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬


তিনি চলাফেরা করেন বল-বিয়ারিং লাগানো চাকার একটি লোহার ঠেলাগাড়িতে বসে। কাঁধে একটি ব্যাগ, আর জুতার ভেতরে হাত ঢুকিয়ে নিজেকে ঠেলে নিয়ে যান। পথচারীদের কাছে তিনি ভিক্ষা চান না; বরং এমন ভঙ্গিতে বসে থাকেন যাতে মানুষ স্বেচ্ছায় দরিদ্র মানুষটিকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন।

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ইন্দোরের ব্যস্ত সারাফা বাজারের ভেতর দিয়ে চলাচল করা এই ব্যক্তির নাম মাঙ্গিলাল। এনডিটিভি বলছে, শারীরিক প্রতিবন্ধী এই কোটিপতির আছে তিনটি বাড়ি, যার একটি তার নামে বরাদ্দপ্রাপ্ত সরকারি ঘর, তিনটি অটোরিকশা এবং একটি মারুতি সুজুকি ডিজায়ার গাড়ি।

ইন্দোরকে ভিক্ষুকমুক্ত করার চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে স্থানীয় নারী ও শিশু উন্নয়ন দফতরের ভিক্ষাবিরোধী অভিযানের সময় মাঙ্গিলালের তথ্য সামনে আসে। গেল শনিবার গভীর রাতে সারাফা এলাকায় নিয়মিত ভিক্ষা করা এক কুষ্ঠরোগী ব্যক্তির খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল মাঙ্গিলালকে তুলে আনার পর তারা এটিকে একটি সাধারণ ঘটনা বলে মনে করেছিল। কিন্তু তদন্তে উঠে আসে চমকপ্রদ তথ্য।

দীর্ঘদিন ধরে ‘নীরব ভিক্ষার’ কৌশল রপ্ত করেছিলেন মাঙ্গিলাল। তিনি কখনো কিছু চাইতেন না। নিজের লোহার গাড়িতে বসে থাকতেন। বাকি কাজ করত মানুষের সহানুভূতি। মানুষ স্বেচ্ছায় দান করত। শুধু ভিক্ষা থেকেই তার দৈনিক আয় ছিল প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ রুপি।

তবে তদন্তকারীদের মতে, আসল ‘ব্যবসা’ শুরু হতো রাত নামার পর।

জিজ্ঞাসাবাদে মাঙ্গিলাল স্বীকার করেন, ভিক্ষা থেকে পাওয়া টাকা তিনি নিজের জীবিকা নির্বাহে খরচ করতেন না; বরং সেই অর্থ আবার সারাফা বাজারেই বিনিয়োগ করতেন। তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একদিন বা এক সপ্তাহের জন্য নগদ টাকা ধার দিতেন এবং প্রতিদিন সন্ধ্যায় নিজে গিয়ে সুদ আদায় করতেন। 

কর্মকর্তাদের ধারণা, তিনি ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি পর্যন্ত ঋণ দিয়েছেন এবং সুদসহ প্রতিদিন ১,০০০ থেকে ২,০০০ রুপি আয় করতেন।

প্রতিবেদন অনুসারে, যাকে এতদিন নিঃস্ব বলে মনে করা হতো, সেই ব্যক্তি আসলে ভালো এলাকায় অবস্থিত তিনটি বাড়ির মালিক, যার মধ্যে একটি তিনতলা ভবন। তার তিনটি অটোরিকশা আছে যেগুলো প্রতিদিন ভাড়া দেয়া হয়। এছাড়া একটি মারুতি সুজুকি ডিজায়ার গাড়িও আছে।

শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে সরকারি প্রকল্পের আওতায় একটি এক বেডরুম, হল ও রান্নাঘরবিশিষ্ট ঘরও পেয়েছেন মাঙ্গিলাল। যদিও তার আগে থেকেই একাধিক সম্পত্তি ছিল।

নারী ও শিশু উন্নয়ন দফতর এবং উদ্ধার অভিযানের কর্মকর্তা দীনেশ মিশরা জানান, মাঙ্গিলালকে উজ্জয়িনের সেবাধাম আশ্রমে স্থানান্তর করা হয়েছে। তার ব্যাংক হিসাব ও সম্পত্তি তদন্তাধীন এবং যেসব ব্যবসায়ী তার কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিলেন, তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

অভিযান ও এর ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে দীনেশ বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে মাঙ্গিলাল স্বীকার করেছেন যে, ভিক্ষা থেকে পাওয়া টাকা তিনি সারাফা এলাকার কিছু ব্যবসায়ীকে সুদে ধার দিতেন। তিনি একদিন বা এক সপ্তাহের জন্য টাকা দিতেন এবং প্রতিদিন সুদ আদায় করতে সারাফা এলাকায় আসতেন।’

অভিযানের বিবরণ দিয়ে তিনি আরও বলেন, 

শনিবার রাত ১০টার দিকে উদ্ধারকারী দল তথ্য পায় যে, সারাফা এলাকায় প্রায় প্রতি সপ্তাহেই ভিক্ষা করা মাঙ্গিলাল নামের এক ব্যক্তি আছেন যিনি কুষ্ঠরোগী। পরিকল্পনা অনুযায়ী দলটি রাত ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে তাকে উদ্ধার করে। পরে তার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে জানা যায়, মাঙ্গিলালের তিনটি বাড়ি আছে। এর মধ্যে একটি তিনতলা এবং বাকি দুটি একতলা, যার সবগুলোই ভালো এলাকায় অবস্থিত। তার তিনটি অটোরিকশাও আছে, যেগুলো তিনি ভাড়ায় দেন। এছাড়া তার একটি মারুতি সুজুকি ডিজায়ার গাড়ি রয়েছে, যা তিনি যাতায়াতের কাজে ব্যবহার করেন।

২০২১ বা ২০২২ সাল থেকে ভিক্ষা করে আসা মাঙ্গিলালকে বর্তমানে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তার বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করে কালেক্টরের কাছে জমা দেয়া হয়েছে।

এনডিটিভি বলছে, এই ঘটনা ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইন্দোরের ভিক্ষাবিরোধী অভিযানে এক ‘অপ্রত্যাশিত অধ্যায়’ যোগ করেছে। সরকারি এক জরিপে শহরে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার ভিক্ষুক চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ৪ হাজার ৫০০ জন ভিক্ষা ছেড়েছেন, ১ হাজার ৬০০ জনকে উদ্ধার করে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে এবং ১৭২ শিশুকে স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি


আরো সংবাদ পড়ুন...